Search

Wednesday, February 3, 2010

ভাষা ও সংস্কৃতি

ঐতিহাসিক ঢাকার অনেক আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য থাকলেও আজ আধুনিক ঢাকার ছোঁয়ায় তা অনেকটাই বিলীন। তবুও আজকের পুরান ঢাকা নামে পরিচিত অতীতের ঢাকা শহরে এসব আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ কিছু কিছু চোখে পড়ে।

খাদ্য ও রান্নাবান্না সম্পর্কিত খ্যাতি বিদেশী খাদ্য এবং রান্নাবান্নায় পারদর্শিতার ক্ষেত্রে ঢাকার খ্যাতি গত কয়েক শতাব্দী ধরে অক্ষুণ্ণ রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী মোগল রন্ধন প্রণালী যেমন পোলাওভাত, বিরিয়ানী, বাকরখানি এবং বিভিন্ন প্রকারের মিষ্টান্ন এ এলাকার সুখ্যাতি ধরে রেখেছে।

পুরান ঢাকার পুরুষরা ধুতি, লুঙ্গি, শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবী এবং মহিলারা শাড়ি সালোয়ার, কামিজ ও পর্দা হিসাবে বোরখা ব্যবহার করে থাকে। হিন্দু মেয়েদের মধ্যে শাখা, সিঁদুর, বাজু ইত্যাদির ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।

ঢাকার বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন গুলো হলো- পাল্কি, গরু ও ঘোড়ার গাড়ি, গয়না নৌকা, সাম্পান নৌকা ইত্যাদি। এর মধ্যে পুরান ঢাকার রাস্তায় ঘোড়ার গাড়ি এবং বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকার চলন দেখা যায়।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের মধ্যে তাঁত, কাঁসা ও পিতল, সেলাই কাজ, বাঁশ ও বেতের কাজ, স্বর্ণকার, কামার, কুমার কাঠের কাজ, হস্তলিপি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। মসলিন একসময় সারা বিশ্বে সমাদৃত ছিল কিন্তু উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় এ শিল্প বন্ধ হয়ে যায়।

এখানকার সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ঢাকাবাসীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাইতো পরবর্তীতে ঢাকাকে কেন্দ্র করে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যেমন, শিল্পকলা একাডেমী, নজরুল ইনষ্টিটিউট, বাংলা একাডেমী, চারুকলা ইনষ্টিটিউট, বুলবুল ললিতকলা একাডেমী ইত্যাদি।

No comments:

Post a Comment